Visitors

Wednesday, 11 September 2019

আল্লাহ এবং মানুষ


আল্লাহ এবং মানুষ

মানুষ আল্লাহকে তখনি বিশ্বাস করে, যখন সে নিজে থেকে 'উপলব্ধি' করতে পারে যে, তিনি সত্যিই আছেন।
.
ধরুন,মখলেছ মিয়া একজন বিরাট বড় মাপের ব্লগার॥
.
শুধু তাই নয় ফেসবুকেও তিনি খুব হিট। তার প্রচুর ফলোয়ার আর প্রতি পোস্টে তিনি হাজারের উপর লাইক পান।
.
তো মখলেছ মিয়া লেখালেখি করেন নানা বিষয় নিয়ে। তিনি তার লেখা দিয়ে প্রমান করতে চান এই পৃথিবীতে আল্লাহ, গড, ভগবান বলে
কিছুই নেই, মোট কথা সৃষ্টিকর্তা বলেই কিছুই নেই।
.
এবং তিনি তার লেখা দিয়ে প্রমান করতে চান ধর্মগ্রন্থ গুলো সব মিথ্যা - সবই বিজ্ঞানের
খেলা।
.
এখন মখলেছ মিয়াকে যদি বলা হয় কুরআন বিশ্বাস করেন কি না?
এর উত্তরে মখলেছ মিয়া অবশ্যই 'না' বলবে এবং নানান রকমের যুক্তি তর্ক দিয়ে প্রমাণ করার চেষ্ঠা করবে, কুরআন আল্লাহর কোনো বাণী না।
.
এখন যদি আকাশ থেকে আলোর তৈরি কোনো ফেরেস্তা বা অন্য কিছু এসে মখলেছ মিয়াকে বলে, 'হ্যা, কুরআন সত্যিই আল্লাহর বাণী, কোনো সন্দেহ নেই। তোমাকে এর পুরোটাই মানতে হবে।'
.
এই কথা শোনার পরে কি মখলেছ মিয়া একদম পুরোপুরি ঈমানদার বা মুসলমান হয়ে যাব??
.
আসলে হবেনা। মখলেছ মিয়া তখন নানান রকম যুক্তি দিয়ে বোঝাতে চাইবে, ঐ আসলে ফেরেস্তা টেরেস্তা কিছুই না - ঐ টা আসলে হ্যালুসিলেশন ছিল কিংবা দেখার ভুল ছিল॥
.
আবার যদি, মখলেস মিয়ারে প্রশ্ন করা হয়, আল্লাহ আছে এই কথা আপনি বিশ্বাস করেন না কেনো??
.
স্বাভাবিকভাবেই, অন্য আর দশজন নাস্তিকের মতই মখলেছ মিয়া উত্তর দেবে - "যেহেতু আল্লাহকে কোনোদিন দেখিনি এবং কেউ দেখেনি তাই
বিশ্বাস করিনা।" .
স্বাভাবিক ভাবে এই দ্বন্দটা হাজার হাজার বছর থেকে হয়ে আসছে। হাজার বছর পূর্বে থেকেই কিছু মানুষ এই একই প্রশ্ন করে যাচ্ছে।
.
যেমন মুসা আঃ
.
এর সময় তার সম্প্রদায়ের কিছু লোক বলেছিলেন - আল্লাহকে না দেখা পর্যন্ত বিশ্বাস করবো না যে মুসা আল্লাহর প্রেরিত নবী এবং আল্লাহ বলে
কেউ আছেন। সুরা বাকারায় আছে, "হে মূসা, কস্মিনকালেও আমরা তোমাকে বিশ্বাস করব না, যতক্ষণ না আমরা আল্লাহকে (প্রকাশ্যে) দেখতে পাব।
(আল বাকারা - ৫৫)"
.
. এই একই প্রশ্ন হাজার বছর থেকে চলে আসছে, তবে তার সাথে মখলেছ মিয়ার মতো মানুষ আরো কিছু প্রশ্ন যোগ করেছে।
.
বিজ্ঞান মনষ্ক উঠতি নাস্তিক : আল্লাহ যদি সবকিছুই সৃষ্টি করে থাকেন, তাহলে তাকে সৃষ্টি করলো কে?
.
হতাশাগ্রস্থ নাস্তিক: সত্যিই যদি আল্লাহ থাকে, তাহলে পৃথিবীতে এত দুঃখ, কষ্ট কেনো? সারা পৃথিবীতে মুসলিমরা এতো মারা যাচ্ছে কেনো?
.
. দার্শনিক নাস্তিক : আল্লাহ বলে কেউ আছে এর পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। যেহেতু আল্লাহকে কেউ দেখেনি এবং এখন পর্যন্ত কোনো বিজ্ঞান
সম্মত প্রমাণ পাওয়া যায়নি তাই আল্লাহ বলে কিছুই নাই॥
.
উগ্রবাদি নাস্তিক : ধর্মটাই একটা ভাওতাবাজি তাই আল্লা থাকা না থাকার কথা উঠছে কেন?? স্রষ্টা একটা কাল্পনিক বিষয় সব মৌলবাদীদের
ধান্দা।
.
. উপরোক্ত প্রশ্নগুলোর অনেক যুক্তি সম্পন্ন উত্তর আছে কিন্তু তারপরও মখলেছ মিয়ার মতো মানুষরা বিশ্বাস করবেনা যে সত্যিই স্রষ্ঠা বলে
কেউ আছেন!!!
.
এর কারণ নাস্তিকতার মুল ভিত্তি হলো অবিশ্বাস।
.
নাস্তিকতার সংগা বিষয়ে উইকিপিডিয়া বলছে, [নাস্তিক্যবাদ বিশ্বাস নয় বরং
অবিশ্বাস এবং যুক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। বিশ্বাসকে খণ্ডন নয় বরং বিশ্বাসের অনুপস্থিতিই এখানে মুখ্য]
.
উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে, বর্তমান বিশ্বের জনসংখ্যার ২.৩% মানুষ নিজেদের নাস্তিক বলে পরিচয় দেয় এবং ১১.৯% মানুষ কোন ধর্মেই বিশ্বাস করে না। মানে নাস্তিকদের সংখ্যাটা খুব কম।
.
আর নাস্তিক মাত্রই ধরে নেবে যে আল্লাহ নেই॥
.
কারণটা হাজার বছরের পুরনো - যেহেতু আল্লাহকে তারা দেখেনি তাই বিশ্বাস করার প্রশ্নই আসেনা। '
.
বিশ্বাস করব না, যতক্ষণ না আল্লাহকে নিজের চোখে দেখছি '- এটাই তাদের বড় যুক্তি!
.
মানুষ এখন পর্যন্ত সৃষ্টি জগতের ৫% ও বৈজ্ঞানিক ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারেননি। তাই কেবল মাত্র একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মানুষের পক্ষেই
বলা সম্ভব যে, স্রষ্টার অস্তিত্ব নেই।
.
মানুষ আল্লাহকে তখনি বিশ্বাস করে, যখন সে নিজে থেকে 'উপলব্ধি' করতে পারে যে, তিনি সত্যিই আছেন।
=============================
মানুষের ঈমান-আমল বিনষ্টকারী প্রচলিত কিছু কুসংস্কার থেকে বেঁচে থাকা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব।

তেমনি ২০ টি প্রচলিত কুসংস্কার নিয়ে থাকছে আজকের প্রথম পর্বে।
______________________________
১→ পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পূর্বে ডিম খাওয়া যাবে না। তাহলে পরীক্ষায় ডিম (গোল্লা) পাবে।

২→ দোকানের প্রথম কাস্টমার ফেরত দিতে নাই বা বাকি দিতে নাই, তাহলে পুরো দিনটাই কাস্টমার আসবেনা বা বাকিতে যাবে।

৩→ জোড়া কলা বা জোড়া যেকোনো খাদ্য খেলে জোড়া সন্তান জন্ম নিবে।

৪→ রাতে নখ, চুল ইত্যাদি কাটতে নাই,কাটলে নাকি হায়াত কমবে।

৫→ চোখে কোন গোটা হলে ছোট বাচ্চাদের নুনু লাগাইলে সুস্থ হয়ে যাবে।

৬→ ভাই-বোন মিলে মুরগী জবেহ করা যাবে না।

৭→ ঘরের ময়লা পানি রাতে বাইরে ফেলা যাবে না।

৮→ ঘর থেকে কোন উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পর পেছন থেকে ডাক দিলে যাত্রা অশুভ হবে।

৯→ ব্যাঙ ডাকলে বৃষ্টি হবে।

১০→ কুরআন মাজীদ হাত থেকে পড়ে গেলে আড়াই কেজি চাল দিতে হবে।

১১→ ছোট বাচ্চাদের দাঁত পড়লে ইঁদুরের গর্তে দাঁত ফেলতে বলা হয়, দাঁত ফেলার সময় বলতে শিখানো হয়, “ইঁদুর ভাই, ইঁদুর ভাই, তোর চিকন দাঁত টা দে, আমার মোটা দাঁতটা নে।”

১২→ মহিলার পেটে বাচ্চা থাকলে কিছু কাটা-কাটি বা জবেহ করা যাবে না,এতে সন্তান বিকলাঙ্গ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

১৩→ ভাঙা আয়না দিয়ে চেহারা দেখা যাবে না। তাতে চেহারা নষ্ট হয়ে যাবে।

১৪→ ডান হাতের তালু চুলকালে টাকা আসবে। আর বাম হাতের তালু চুলকালে টাকা যাবে বা বিপদ আসবে।।

১৫→ বন্ধু মহলে কয়েকজন বসে গল্প-গুজব করছে, তখন তাদের মধ্যে অনুপস্থিত কাউকে নিয়ে কথা চলছে, এ অবস্থায় সে উপস্থিত হলে, কেউ কেউ বলে উঠে ‘দোস্ত তোর হায়াত আছে।’ কারণ একটু আগেই তোর কথা বলছিলাম।

১৬→ হঠাৎ বাম চোখ কাঁপলে দুঃখ আসার সম্ভাবনা আছে।

১৭→ বাড়ী থেকে কোথাও জাওয়ার উদ্দেশে বেড় হলে সে সময় বাড়ির কেউ পেছন থেকে ডাকলে অমঙ্গল হয়।

১৮→ স্ত্রী গনকে স্বামীর নাম বলা জাবে না এতে স্বামীর অমঙ্গল হয়।

১৯→ বাছুর এর গলায় জুতার টুকরা ঝুলালে কারো কু-দৃষ্টি থেকে বাঁচা যায়

২০→ বৃষ্টির সময় রোদ দেখা দিলে বলা হয় শিয়ালের বিয়ে।

আল্লাহ আমাদের এসব কুসংস্কার বিশ্বাস করা থেকে হেফাজত রাখুক এবং শিরক মুক্ত ঈমান রাখুক, আমিন ইয়া রাব্বাল আলামীন।

Collected and edited by...
→ Md Atikur Rahman Noyon
=-=================================

খয়বর এবং খগেনদের জালিয়াতি



খয়বর এবং খগেনদের জালিয়াতি

প্রশ্ন

জনৈক নাস্তিকের অভিযোগ,

হাদীসে এসেছে, খায়বারে সকাল বেলা সেখানকার বাসিন্দারা কাজে মগ্ন থাকা অবস্থায় মুহাম্মদ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তাদের কাছে গিয়ে যুদ্ধের ঘোষণা করলেন।
একটি অসম যুদ্ধ হল।
নবীজীর সৈন্যবাহিনী সাফিয়্যার বাবা উবাই বিন আখতাবকে হত্যা করল। সাফিয়্যার স্বামীকে হত্যা করল।
তাকে নিয়ে যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহার করলেন। তারপর তাকে বিয়ে করলেন।
এগুলো কোনটিই বিবেকের সাথে যায় না। বিবেক এগুলো মানতে পারে না।
যদি আমি একাত্তরে জন্ম গ্রহণ করতাম। তাহলে শত্রুর সাথে লড়াই করতাম। কিন্তু নিজের বিবেকের সাথে লড়াই করতে পারলাম না। তাই ইসলাম ছেড়ে নাস্তিক হয়েছি।

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم
নাস্তিকদের দাবী তারা মুক্তমনা। উদার চিত্তের অধিকারী হয়ে থাকেন। যারা মুক্তমনা হয়ে থাকেন,তাদের উচিত সব কিছুকে মুক্তভাবেই ব্যক্ত করা। মৌলিক কথা লুকিয়ে শুধু পরিণাম উল্লেখ করা মুক্তমনার কাজ নয়। বরং সংকীর্ণমনা ব্যক্তিদের কাজ।

উদাহরণতঃ
একজন বলল,‍বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধারা আলশামস বাহিনীর সদস্যদের ঘেরাও করল। তাদের ঘরবাড়ী থেকে বের করে এনে হত্যা করল। তাদের কাছে রক্ষিত মালামাল লুট করল।

এখন উপরোক্ত বক্তব্যটিকে বাহ্যিক দৃষ্টিতে দেখলে একজন বিবেকবান বলবে,আরে এতো জুলুম!এতো অন্যায়। একদল নীরিহ মানুষকে কেন হত্যা করল মুক্তি বাহিনী? কেন তাদের ঘেরাও করে লড়াইয়ে বাধ্য করল? এটা কি অমানবিক নয়?

আমরা জবাবে বলব,যে ব্যক্তি প্রথম মন্তব্যটি করেছে,সে লোক প্রচণ্ড প্রতারক এবং ধোঁকাবাজ। সে শুধু আলশামস বাহিনীর উপর হামলা ও হত্যার চিত্র তুলে ধরেছে। কিন্তু কি কারণে তাদের হত্যা করা হল? কেন তাদের উপর হামলা করল মুক্তিবাহিনী? তা উল্লেখ না করে মস্ত বড় খেয়ানত করেছে।

যদি লোকটি প্রথমে উল্লেখ করত যে,আলশামস বাহিনী দেশের নীরিহ জনতাকে হত্যা করতে,বাড়িঘর লুণ্ঠন করতে বর্হিশত্রুদের আমন্ত্রণ করেছে। বর্হিশক্তিকে সহযোগিতা করেছে। এমনকি তারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্টকে হত্যা করতে একাধিকবার ষড়যন্ত্র করেছে। তাদের এ অমার্জনীয় অপরাধের শাস্তি স্বরূপ তাদের হত্যা করেছে মুক্তিবাহিনী।

এভাবে পুরো বিষয়টি যে উল্লেখ করবে, সে ব্যক্তিই প্রকৃত মুক্তমনা। আর যে ব্যক্তি শুধু হামলা ও হত্যার কথা উল্লেখ করল। কিন্তু তাদের অপরাধের কথা উল্লেখ করেনি। উক্ত ব্যক্তি মুক্তমনা নয়। বরং প্রচন্ড সাম্প্রদায়িক ও সংকীর্ণমনা।

উপরোক্ত উদাহরণটি অনুধাবন করলে নাস্তিকটির উপরোক্ত আবেগী বক্তব্যটির প্রকৃত স্বরূপ বুঝতে পারবেন। লোকটি কোন স্থানে প্রতারণা ও ধোঁকাটি দিয়েছে।

খায়বারে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অভিযানের কথা উল্লেখ করেছে নাস্তিকটি। কিন্তু কেন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ অভিযান পরিচালনা করলেন তা উল্লেখ না করে চরম ঘৃণিত প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে সে।

আমরা আসল হাকীকত সম্পর্কে জেনে নেই!

খায়বারের অধিবাসী এরা কারা?

খায়বারে যারা বসবাস করতো। তারা ছিল বনী নজীরের বাসিন্দা। ইহুদী।

বনী নজীরের সাথে পূর্ব থেকে মুসলমানদের শান্তি চুক্তি ছিল। বনী নজীরের বস্তিতে একদা নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বাড়ির দেয়াল ঘেঁষে বসে ছিলেন। বনী নজীরের লোকেরা বাহ্যিকভাবে খুবই ভাল ব্যবহার করছিল। কিন্তু তলে তলে একজন লোককে ঠিক করল,যে ছাদের উপর থেকে বড় একটি পাথর নবীজীর মাথার উপর ফেলবে। ফলে তিনি শহীদ হয়ে যাবেন। ইন্নালিল্লাহ।

এ ভয়াবহ সংবাদ নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহ তাআলা অহীর মাধ্যমে জানিয়ে দেন। ফলে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখান থেকে উঠে চলে যান। ফলে তাদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয়ে যায়।

[উয়ুনুর আছার-২/৭০-৭১, দারুল কলম প্রকাশনী,বৈরুত,সীরাতে ইবনে হিশাম-২/১৯০]
দু’টি জঘন্য কাজ করেছে বনী নাজীর। যথা-

১ চুক্তি ভঙ্গ করেছে।

২ নবীজীকে হত্যা করার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র করেছে।

তাদের গাদ্দারীর শাস্তি দিতে মুসলিম বাহিনী যখন আগমণ করে,তখন তারা তাদের দুর্গে আশ্রয় নেয়। মুসলমানগণ তাদের দুর্গ অবরোধ করে রাখেন। অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় আরেকটি ষড়যন্ত্রের ছক আঁকে তারা। সংবাদ পাঠায়, মুসলমানদের পক্ষ থেকে তিনজনকে পাঠানো হোক দুর্গে। আর বনী নজীরের পক্ষ থেকে তিনজন পাদ্রীকে পাঠানো হবে। পরস্পর আলোচনা করে যদি তিন পাদ্রী মুসলমান হয়ে যায়। তাহলে তারা সবাই মুসলমান হয়ে যাবে। কিন্তু তারা এখানেও গাদ্দারী করে তাদের পাঠানো পাদ্রীদের খঞ্জর লুকিয়ে নিতে আদেশ করে। যেন মুসলিম উলামার সাথে সাক্ষাৎ হতেই তাদের হত্যা করতে পারে। [সীরাতে মুস্তাফা, ইদ্রিস কান্ধলবীকৃত-২/২৬৮]

এরকম জঘন্য গাদ্দারী প্রকাশ হবার পরও নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের হত্যা করার নির্দেশ দেননি। বরং তাদের মদীনা থেকে দূরে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে সুযোগ করে দেন।

তখন তারা খায়বারে গিয়ে অবস্থান শুরু করে। খায়বারে যাবার সময় তারা তাদের বাড়ি ঘরের দরজা চৌকাঠও খুলে নিয়ে গিয়েছিল। তাদের সর্দার ছিল হুয়াই বিন আখতাব এবং কিনানা বিন রাবী। [উয়ুনুল আছার-২/৭১]

এখানেই তাদের ষড়যন্ত্র শেষ নয়। খায়বরের অধিবাসী বনী নজীরের সর্দার হুয়াই বিন আখতাব মক্কায় গিয়ে কুরাইশদের এবং কিনানা বিন রবী বনী গাতফানকে ফুঁসলিয়ে দশ হাজার সৈন্যের বিশাল বাহিনী নিয়ে মদীনা অবরোধ করেছিল খন্দক যুদ্ধে। [ফাতহুল বারী-৭/৫৮১,খন্দক যুদ্ধ]

শুধু তাই নয়। পূর্ব থেকে মুসলমানদের সাথে সন্ধিতে চুক্তিবদ্ধ থাকা বনী কুরাইজাকেও বিদ্রোহ করে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রাজী করায় এ খায়বারের ইহুদী সর্দার হুয়াই বিন আখতাব।

বনী নজীরের সর্দার হুআই বিন আখতাব বনু কুরাইজার সর্দার কাব বিন আসাদ কুরাজীকে তার দলে টানতে আসে,তখন সে দৃঢ়তার সাথে বলেছিলঃ

আফসোস তোমার জন্য হে হুয়াই! নিশ্চয় তুমি এক নিকৃষ্ট ব্যক্তি। নিশ্চয় আমি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সাথে চুক্তিবদ্ধ। সুতরাং আমার ও তার মাঝে যে চুক্তি রয়েছে তা আমি ভঙ্গ করতে পারবো না। আর আমি তাকে একজন ওয়াদা রক্ষাকারী এবং সত্যনিষ্টই পেয়েছি। [সীরাতে ইবনে হিশাম-২/২২০,গাযওয়ায়ে খন্দক অধ্যায়)

এভাবে ইসলামী রাষ্ট্র ধ্বংস করার জন্য একের পর এক ষড়যন্ত্র করে যায় খায়বারের ইহুদীরা। এমনকি ইসলামী রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হত্যারও চেষ্টা করেছিল এ গাদ্দাররা।

এরকম জঘন্য অপরাধীদের ক্ষেত্রে তথাকথিত মুক্তমনাদের মতামত কী?

তাদের শাস্তি প্রদান করা কি অপরাধ? নাকি কঠোর শাস্তিটাই ন্যায্য বিচার? আপনাদের মুক্ত বিবেক কী বলে?

সফিয়্যার স্বামী ছিল কিনানা বিন রাবী। যে ছিল বনী নজীরের একজন নেতা। এ গাদ্দার বনী গাতফানকে ফুঁসলিয়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করেছিল।

তারপরও নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সাথে শান্তি চুক্তি করে তাদের খায়বার ত্যাগ করে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে নির্দেশ দেন। কিন্তু এখানেও তারা গাদ্দারী করে গনীমতের প্রচুর সম্পদ সম্বলিত থলে চুরি করে পালাচ্ছিল।

যার নেতৃত্ব দিচ্ছিল কিনানা বিন রাবী। শুধু তাই নয় সে সাহাবী মাহমুদ বিন মাসলামা রাঃ কে শহীদ করেছিল।

তার এসকল অমার্জনীয় অপরাধের কারণে তাকে হত্যা করা হয়। [সীরাতে ইবনে হিশাম-২/৩৩৬-৩৩৭]

এতগুলো অমার্জনীয় অপরাধ করার পরও অপরাধীদের ক্ষমা করে দেয়া। নিরাপদ স্থানে চলে যেতে দুই দুইবার সুযোগ দেয়া। এমন কোন সেনা নায়ক, রাষ্ট্র বিজেতার নজীর পৃথিবীর ইতিহাস কখনো দেখাতে পারেনি। দেখাতে পারবেও না।

কথিত মুক্তমনারাই কি উপরোক্ত অমার্জনীয় দোষে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এমন সহনশীল আচরণ করতে পারবেন?

মুক্তিযুদ্ধকালীন অপরাধী রাজাকারদের ক্ষেত্রে কি কথিত মুক্তমনারা নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই নীতি অনুসরণ করতে পেরেছেন? রাজাকারদের নিরাপদ স্থানে চলে যাবার সুযোগ দিতে কি তারা রাজী? নাকি বিদেশ থেকে ধরে এনেও তাদের বিচার করার পক্ষপাতি?

নিজের বিবেককে একবার কি জিজ্ঞেস করেছে মুরতাদ সেই কথিত মুক্তমনা?

আর স্বামীহারা অসহায় সফিয়্যাকে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যথাযথ মর্যাদায় বিয়ে করে, স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে দুনিয়া ও আখেরাতের জন্য করেছেন চরম সম্মানিতা। রাজিয়াল্লাহু আনহা।

পূর্ণ অবস্থান সামনে রাখলে কোন বিবেকবান,যুক্তিবাদী, মুক্তমনা মানুষ নবীজীর খায়বার যুদ্ধ নিয়ে অভিযোগ তুলতেই পারে না।

তবে যাদের মস্তিস্ক বিকৃতি ঘটেছে। বিবেক-বুদ্ধি ঘুন পোকায় খেয়েছে। এমন উন্মাদ নাস্তিকের মুখেই মানায় এসব হাস্যকর অভিযোগ।

সূত্র- http://ahlehaqmedia.com/6941/

মানবতাবাদীর অন্তর্জালে ভন্ডবাদ/এবং প্রকৃত মানবতা।


মানবতাবাদীর অন্তর্জালে ভন্ডবাদ/এবং প্রকৃত মানবতা।
-
মানবতাবাদী দাবীদার মানুষদের কাছে আমার কিছু প্রশ্ন। --আপনি কি আপনার পাশের বস্তিতে থাকা মেয়েটার মাথায় কখনও হাত বুলিয়ে জিজ্ঞাস করেছেন সে সকালে কি খেয়েছে? --আপনি যে স্টেসন থেকে প্রতিদিন ট্রেন ধরেন সে স্টেসনের পাঁচ বছর বয়সী ছেঁড়া হাফ প্যান্ট পড়া ছেলেটাকে কি কখনও জিজ্ঞাস করেছেন সে কোথায় থাকে? --আপনার সিগনালে আটকে থাকা গাড়িতে ফুল বিক্রি করতে আসা পিচ্চি মেয়েটিকে কি কখনও জিজ্ঞাস করেছেন সে স্কুলে যায় কিনা? --আপনার হাত ধরে ভিক্ষা চাওয়া পঙ্গু ছেলেটাকে কি কখনও জিজ্ঞাস করেছেন যে সে ডাক্তার দেখিয়েছে কিনা? . আপনার উত্তর হ্যা কি না তাতে আমার কোন আগ্রহ নেই। কারন দিনশেষে মানবতার বুলি আওড়ানো আপনারাই কোন পথবাসী শিশু আপনার হাতে থাকা পাউরুটির এক টুকরা চাইলে তাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে দূর করবেন।👿 অথচ কথায় কথায় মানবতার ভুলি আওরাতে ভুলবেন না। 😒
-
অথচ প্রকৃত মানবতার প্রকৃষ্ট উদাহারন ইসলাম বৈ কোন মতবেদে পাবেন না। ইসলাম উদারতার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। সব মত, পথ ও ধর্মের সহাবস্থানের জায়গাটি হলো ইসলাম। বিগত দেড় হাজার বছর ধরে ইসলাম উদারতা, মানবিকতাবোধ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহিষুষ্ণতার অপূর্ব নজির স্থাপন করে আসছে। 'মদিনা সনদ' উদারতার এক ঐতিহাসিক দলিল। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় ইসলাম যে উদাহরণ স্থাপন করেছে এর কোনো নজির নেই। বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহমর্মিতা ও সদ্ব্যবহার ইসলামের অনুপম শিক্ষা। অমুসলিমদের সঙ্গে সদাচরণ ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠা পবিত্র কোরআনের নির্দেশ। রাসূূল (সা.) তার ২৩ বছরের নবুয়তি জীবনে অমুসলিমদের সঙ্গে সহাবস্থানের বাস্তব নমুনা স্থাপন করে গেছেন। উদারতার এক জ্বলন্ত প্রতীক ছিলেন প্রিয়নবী (সা.)। জগদ্বাসীর সামনে তিনি ক্ষমা ও উদারতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। ইসলাম সহিষুষ্ণতা, সম্প্রীতি ও মানবতার ধর্ম। ইসলাম বিস্তৃতি লাভ করেছে তার আদর্শের শক্তিতে, তলোয়ারের জোরে নয়। ইসলামের নবী এবং তাঁর সহযোগী সাহাবায়ে কেরামের আদর্শই হলো মূল শক্তি। অল্পদিনে ইসলাম অর্ধেক পৃথিবী জয় করার পেছনে মূল শক্তিটি ছিল আদর্শের, উদারতার। পৃথিবীর আর কোনো ধর্ম বা মতাদর্শ এত উদারতা দেখাতে পারেনি, যা দেখিয়েছেন ইসলাম এবং ইসলামের নবী। কোরআনে বলা হয়েছে, 'আল্লাহ নিষেধ করেন না ওই লোকদের সঙ্গে সদাচার ও ইনসাফপূর্ণ ব্যবহার করতে, যারা তোমাদের সঙ্গে ধর্মকেন্দ্রিক যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদের আবাসভূমি হতে তোমাদের বের করে দেয়নি। নিশ্চয় আল্লাহ ইনসাফকারীদের পছন্দ করেন।' (সুরা আল মুমতাহিনা-৮)
-
ইসলাম মানুষের ভেতরে তার প্রকৃতিগত গুণ তথা মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটিয়েছে। ইসলামের শিক্ষা হলো, প্রথমে ভালো মানুষ হতে হবে, পরে ভালো মুসলমান। যিনি ভালো মুসলমান তিনি ভালো মানুষও বটে। হাদিসে বলা হয়েছে, 'তোমরা ইমান না আনা পর্যন্ত বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে না। আবার পরস্পরকে ভালোবাসতে না পারা পর্যন্ত ইমানদার হতে পারবে না।' প্রকৃত ইমানদার হতে হলে মানবপ্রেম অন্তরে জাগাতে হবে। মানুষের প্রতি দায়বোধ বাড়াতে হবে। শুধু মানুষই নয় প্রতিটি প্রাণীর প্রতি দয়া প্রদর্শন করতে হবে। মানবকল্যাণে যিনি কাজ করেন তিনিই আল্লাহর প্রিয়। ইসলামের নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.) জীবনভর মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। তার শিক্ষাও হলো মানবতাবোধ ও উদারতার। তিনি শিখিয়েছেন কীভাবে মানুষকে ভালোবাসতে হবে। নিজের জীবনকে কীভাবে পরের জন্য উৎসর্গ করা যায়, এটা তিনি বাস্তবেও দেখিয়েছেন এবং এর প্রতি জোর তাগিদও দিয়েছেন। ইসলাম মানুষকে ত্যাগ ও বিসর্জনের শিক্ষা দেয়। যারা নিজেকে বিলিয়ে দিতে পারে তারাই ইসলামের দৃষ্টিতে সেরা মানুষ। পরের জন্য কিছু করার বাসনা জাগিয়ে তোলে ইসলাম। শুধু মুসলমানই নয়, ভিন্ন ধর্ম ও মতাবলম্বীদের প্রতিও সদাচরণ, উদারতা প্রদর্শন ইসলামের শিক্ষা।

মানবক্লোনিং



মানবক্লোনিং

সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের নাস্তিক মহলে একটি বিষয়ের প্রচার খুব জোরেশোরে হচ্ছে আর সেটা হচ্ছে মানবক্লোনিং নিয়ে.তাদের ধারনা খুব শীর্ঘই পৃথিবীতে মানব ক্লোনিং শুরু হচ্ছে আর সেই প্রকৃয়ায় পুরুষের শরীরের বীর্যের কোন প্রয়োজন নেই.শরীরের যে কোন অংশের সামান্য সেল বা কোষ সংগ্রহ করে সেই সেল থেকেই ক্লোন করে ডিম্বাণুর সাথে নিষিক্ত করে মানব শিশুর জন্ম দেয়া হবে.আর তখন সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত যে আদিম প্রকৃয়া দুজনের মিলনের ফলে নতুন শিশুর জন্ম হয় সেই সিস্টেম টাকে পরাস্ত করে জয় হবে আধুনিক বিজ্ঞানের!

এখন দেখা যাক যদি সত্যিই এভাবে মানব ক্লোনিং শুরু হয় তাহলে সেটা কি সত্যিই সৃষ্টিকর্তার ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করবে?

এর উত্তরে যাবার আগে আমরা একেবারে মানব সৃষ্টির প্রারম্ভে চলে যাই.আমরাজানি আল্লাহতায়ালা যখন আদম আঃ কে সৃষ্টি করেন তখন জান্নাতে তার একাকিত্ব দূর করার জন্য হাওয়া আঃ কে সৃষ্টি করেন.এ ব্যাপারে আল্লাহ কোরআনে বলেন,

هُوَ الَّذِي خَلَقَكُمْمِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَجَعَلَ مِنْهَا زَوْجَهَا لِيَسْكُنَ إِلَيْهَا ‘

তিনিই সে সত্তা যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টিকরেছেন এক ব্যক্তি থেকে এবং তার থেকেবানিয়েছেন তার সঙ্গিনীকে, ’ (সূরা আলআরাফ :১৮৯.

এছাড়াও আমরা বিভিন্ন হাদিস থেকেও জানি যে আল্লাহতায়ালা মা হাওয়া আঃ কে হজরত আদম আঃ এর বাম পাজরের বাকানো হাড়ের অংশ থেকে সৃষ্টি করেছেন.সুতরাং এখান থেকে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে যে মানুষের শরীরের কোন সামান্য অংশ দিয়েও অন্য মানব বা মানবী সৃষ্টি সম্ভব.আর এটা সৃষ্টিকর্তার ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ নয় বরং ১৪০০ বছর আগে কোরআনে বর্নিত আল্লাহর সৃষ্টি ফর্মুলাকেই বৈজ্ঞানিক ভাবে স্বীকৃতি দেয়া.এখানে আরো একটি বিষয় লক্ষনীয় আর সেটা হচ্ছে, আমরাজানি মানুষের শরীরে মোট ২৩ যোরা ক্রোমোজম থাকে এর মধ্যে দুই যোরা ক্রমোজমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোজম.যার উপর নির্ভর করে গর্ভের সন্তান পুরুষ হবে নাকি নারি.পুরুষের শরীরে থাকে যেখানে XY নারীর শরীরে থাকে সেখানে XX.এখন কথা হচ্ছে আদম আঃ থেকে হাওয়া আঃ সৃষ্ট তাই আদম আঃ এর শরীরে থাকা X ক্রোমোজম হাওয়া আঃ এর শরীরে বিদ্যমান.আর যদি প্রাকৃতিক বিবর্তনের ফলে মানুষের বংশানুক্রম চলতে থাকে আর নারী পুরুষের জন্মদাতা হয় তাহলে পুরুষের আলাদা বৈশিষ্ট্যের সেই Y ক্রোমোজম কিভাবে পুরুষের শরীরে আসলো যেটা নারীর শরীরে নেই?

এইযে মানুষের শরীরের ২৩ যোরা ক্রোমোজম যার উপরে নির্ভর করে তার দৈহিক গঠন,সে কিরম হবে বা কেমন হবে তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এসবই লিখা থাকে এই ক্রোমোজমগুলোতে.আল্লাহতায়ালা কোরআনে বলেন,

إِنَّا خَلَقْنَا ٱلْإِنسَٰنَ مِن نُّطْفَةٍ أَمْشَاجٍ نَّبْتَلِيهِ فَجَعَلْنَٰهُ سَمِيعًۢا بَصِيرًا

ইন্না-খালাকানাল ইনছা-না মিন নুতফাতিন আমশা-জিন নাবতালীহি ফাজা‘আলনা-হু ছামী‘আম বাসীরা- ।

আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি মিশ্র শুক্রবিন্দু থেকে, এভাবে যে, তাকে পরীক্ষা করব অতঃপর তাকে করে দিয়েছি শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন।
সূরা আল-ইনসান :২

আল্লাহ বলছেন যে মানূষকে মিশ্র শুক্রবিন্দু থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে.আচ্ছা ১৪০০ বছর আগে কোন বিজ্ঞানী জানত যে মায়ের গর্ভে যে ভ্রুন গঠিত হয় সেটা পুরুষের শরীর থেকে একযোরা XX বা XY এবং নারীর শরীর থেকে একযোরা XX ক্রোমোজমের মিশ্রন থেকে.এই আয়াতে আরো বলা হয়েছে যে মানুষকে এভাবে আল্লাহতায়ালা সৃষ্টি করেছেন যে পরিক্ষা করবেন.অর্থাৎ মানুষের সৃষ্টি প্রকৃয়ায় মায়ের গর্ভেই আল্লাহতায়ালা তার চারিত্রিক প্রকৃয়া নির্ধারণ করে দিয়েছেন.ঐ ২৩ যোরা ক্রমোজমের ভেতরেই লিখা আছে যে মানুষ ভালো ইমানদারও হতে পারে আবার ওখানেই লিখা আছে সে বড় হয়ে চোরও হতে পারে.অর্থাৎ জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষের যাবতীয় চারিত্রিক প্রকৃয়াই ওই ক্রোমোজমে কোড আকারে লিখা.আপনি জানেন ওই সমস্ত লিখাগুলোর পরিমাণ কিরকম? একটি বই আকারে প্রকাশ করলে সেটা কত বড় হতো?ধরুন যদি ছয়টি অক্ষর দিয়ে প্রতিটি শব্দ লিখা হয় আর প্রতিটি পাতায় এরকম তিনশত শব্দ থাকে আর ঐ বইটিকে বড় আকারের করে ছাপা হয় যার পৃস্টা সংখ্যা হবে পাঁচশত.তাহলে এরকম দুইহাজার বই লাগবে একজন মানুষের দেহের ডি এন এর সমস্ত তথ্য এক করতে.এ বিশাল তথ্য ভান্ডার আল্লাহ একজন মানুষের শরীরের ভেতর চারিত্রিক গুনাবলীতী সংযোজন করছেন.

তাহলে এখন মনে প্রশ্ন আসতে পারে যে মানুষের চরিত্রের গুনাবলীতে ঐ খারাপ গুনাবলী সংবলিত ডি এন এ কোড না রাখলেই তো পারতেন.তাহলে আর কোন মানুষ পাপী হতোনা.আসলে এজন্যেই আল্লাহতায়ালা এই আয়াতে বলেছেন যে আমি মানুষকে এভাবে সৃষ্টি করেছি যে পরিক্ষা করবো.তাই আমার ডি এন এ কোডে যদি লিখাও থাকে আমি বড় হয়ে চুরি করতে পারি কিন্তু আমি চাইলে সেটাকে এভয়েডও করতে পারবো,আর সেটাও লিখা আছে ঐ ডি এন এ কোডে.আল্লাহতায়ালা পরের আয়াতেই বলেন,

إِنَّا هَدَيْنَٰهُ ٱلسَّبِيلَ إِمَّا شَاكِرًا وَإِمَّا كَفُورًا

ইন্না-হাদাইনা- হুছছাবীলা ইম্মা- শা- কিরাওঁ ওয়া ইম্মা- কাফূরা- ।

আমি তাকে পথ দেখিয়ে দিয়েছি। এখন সে হয় কৃতজ্ঞ হয়, না হয় অকৃতজ্ঞ হয়।

অর্থাৎ মানুষ ভালো চারিত্রিক গুনাবলী বেছে নেবে নাকি খারাপগুলো সেটা তার সম্পুর্ন নিজস্ব ইচ্ছা শক্তির ব্যাপার.এখানে আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে কোন বাধ্যবাধকতা নেই. তাহলে এখন যদি প্রশ্ন করেন এখানে আল্লাহতায়ালা কোন পথের কথা বলছেন এবং মানবজাতি কোন পথের অনুসারী হবে?এ প্রশ্ন বরং আল্লাহতায়ালাকেই করা হোক?সাথে সাথে আল্লাহতায়ালার পক্ষথেকে জবাব আসবে,

ذَٰلِكَ ٱلْكِتَٰبُ لَا رَيْبَ فِيهِ هُدًى لِّلْمُتَّقِينَ

যা-লিকাল কিতা-বুলা-রাইবা ফীহি হুদাল লিলমুত্তাকীন।

এ সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই। পথ প্রদর্শনকারী পরহেযগারদের জন্য,

সূরা আল বাকারা.আয়াত ২.
From : Rajib Hasan .
সংগৃহীত ।

মানব সৃষ্টি : ইসলাম ও বিজ্ঞানের আলোকে



মানব সৃষ্টি : ইসলাম ও বিজ্ঞানের আলোকে
মুহাম্মাদ লিলবর আল-বারাদী
ভূমিকা :
পৃথিবীর সকল কিছু সৃষ্টির মূল উপাদান পানি। এই মৌলিক উপাদান পৃথিবীর সকল জীবদেহের মধ্যে বিদ্যমান। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَاءِ كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ ‘আর প্রাণবান সমস্ত কিছু সৃষ্টি করলাম পানি হ’তে’ (আম্বিয়া ২১/৩০)। জীব বিজ্ঞানের মতে, সাগরের অভ্যন্তরের পানিতে যে প্রোটোপ্লাজম বা জীবনের আদিম মূলীভূত উপাদান রয়েছে তা থেকেই সকল জীবের সৃষ্টি। আবার সকল জীবদেহ কোষ দ্বারা গঠিত। আর এই কোষ গঠনের মূল উপাদান হচ্ছে পানি। ভিন্নমতে, পানি অর্থ শুক্র (কুরতুবী)। তাছাড়া আকাশ ও পৃথিবী বন্ধ ছিল অর্থাৎ পূর্বে আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষিত হ’ত না এবং যমীনে তরুলতা জন্মাত না। আল্লাহর ইচ্ছায় বৃষ্টি বর্ষিত হ’ল এবং মাটি তা থেকে উৎপাদন ক্ষমতা অর্জন করল (ইবনে আববাস)।[1] পৃথিবীর জীব কোষের মূল উপাদান যেমন পানি, তেমনি এই পানিই মাটির উৎপাদন ক্ষমতা লাভের প্রধান উপাদান। মহান আল্লাহ এই ধরণীতে মাটি থেকে একজন প্রতিনিধি সৃষ্টি করেন এবং তারপর তা থেকে ক্রমশঃ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে এই মানব জাতি। মহান আল্লাহর ভাষায়,يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوْبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوْا ‘হে মানবমন্ডলী! আমরা তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি। আর তোমাদেরকে বিভিন্ন বংশ ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যেন তোমরা পরস্পরে পরিচিতি লাভ করতে পার’ (হুজুরাত ৪৯/১৩)।
আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান আবিষ্কার করেছে ‘মানব ক্লোন’। এই ক্লোন পদ্ধতিতে সন্তান জন্ম দিতে গেলে পুরুষের জীব কোষের প্রয়োজন। অর্থাৎ একজন পুরুষের জীব কোষ বা শুক্রাণু ব্যতীত একজন নারী সন্তান জন্ম দানে অক্ষম। কেননা নারীর ডিম্বাণু ক্রমোজম (XX) ও পুরুষের শুক্রাণু ক্রমোজম (XY) পুত্র-কন্যা সন্তান গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এখানে হযরত ঈসা (আঃ)-এর জন্ম সম্পর্কে প্রশ্ন হ’তে পারে, কিন্তু মহান আল্লাহ এ প্রশ্নের সমাধান পবিত্র কুরআনে যথাযথভাবে দিয়েছেন। তিনি বলেন, إِنَّ مَثَلَ عِيْسَى عِنْدَ اللهِ كَمَثَلِ آدَمَ خَلَقَهُ مِنْ تُرَابٍ ثُمَّ قَالَ لَهُ كُنْ فَيَكُوْنُ ‘নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকটে ঈসার দৃষ্টান্ত হচ্ছে আদমেরই মত। তাকে মাটি দিয়ে সৃষ্টি করেছিলেন অতঃপর তাকে বলেছিলেন, হয়ে যাও, সঙ্গে সঙ্গে হয়ে গেল’ (আলে ইমরান ৩/৫৯)। আদি মানব-মানবী ও তাদের সন্তান সৃষ্টির পূর্ব ও পরের গূঢ় রহস্য কথা নিয়ে নিমেণ আলোকপাত করার প্রয়াস পাব ইনশাআল্লাহ।
মানব সৃষ্টির আদি কথা :
আদি পিতা হযরত আদম (আঃ)-এর সৃষ্টি নিয়ে বিভিন্ন বস্ত্তবাদী গবেষক, দার্শনিক নানা বক্তব্য-বিবৃতি দিয়েছেন। যেমন- আদি মানব সম্প্রদায় বানর ছিল। কালের আবর্তনে পর্যায়ক্রমে বানর থেকে মানবে রূপান্তরিত হয়েছে। কিন্তু আমার প্রশ্ন হ’ল বর্তমান যুগে কি বিশ্বের কোথাও একটি বানর মানবে রূপান্তরিত হয়ে জীবন যাপন করছে? কিংবা কোন বানরের গর্ভ থেকে মানব সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়েছে ও বেঁচে আছে? এর জবাব হ’ল নেতিবাচক। এটা সকলের জানা। আদি মানব কি বস্ত্ত থেকে সৃষ্টি তা মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে মহান আল্লাহ স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন যে, ‘কাদামাটি থেকে মানব সৃষ্টির সূচনা (সাজদাহ ৩২/৭), আমি মানবকে পঁচা কাদা থেকে তৈরী বিশুষ্ক ঠনঠনে মাটি (হিজর ১৫/২৬), এঁটেল মাটি (ছাফ্ফাত ৩৭/১১), পোড়া মাটির ন্যায় শুষ্ক মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি’ (আর-রহমান ৫৫/১৪)। আল্লাহ তাকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন (ছোয়াদ ৩৮/৭৫) এবং তার মধ্যে রূহ ফুঁকে দিয়েছেন (ছোয়াদ ৩৮/৭২) আদম একাই শুধুমাত্র মাটি থেকে সৃষ্টি। বাকী সবাই পিতা-মাতার মাধ্যমে সৃষ্ট’ (সাজদাহ ৩২/৭-৯)।
হযরত আদম (আঃ) মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি। কিন্তু মা হাওয়া (আঃ) কি দিয়ে সৃষ্টি সে সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, ‘অতঃপর তিনি তার (আদম) থেকে তার যুগল (হাওয়াকে) সৃষ্টি করেছেন’ (যুমার ৩৯/৬)। তিনি আরও বলেন, ‘তিনি তার (আদম) থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন। আর বিস্তার করেছেন তাদের দু’জন থেকে অগণিত নারী-পুরুষ’ (নিসা ৪/১)। অন্যত্র বলেন, ‘তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সঙ্গিনীকে, তোমাদের জন্যই সৃষ্টি করেছেন’ (রূম ৩০/২১)।
মহান আল্লাহ হযরত আদম (আঃ)-এর পাঁজরের বাঁকা হাড় থেকে মা হাওয়াকে সৃষ্টি করেছেন। এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, فَإِنَّ الْمَرْأَةَ خُلِقَتْ مِنْ ضِلَعٍ، وَإِنَّ أَعْوَجَ شَىْءٍ فِى الضِّلَعِ أَعْلاَهُ، فَإِنْ ذَهَبْتَ تُقِيْمُهُ كَسَرْتَهُ، وَإِنْ تَرَكْتَهُ لَمْ يَزَلْ أَعْوَجَ، فَاسْتَوْصُوْا بِالنِّسَاءِ- ‘নারী জাতিকে পাঁজরের বাঁকা হাড় দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে। আর পাঁজরের হাড়ের মধ্যে একেবারে উপরের হাড়টি অধিক বাঁকা। যদি তা সোজা করতে যাও, ভেঙ্গে ফেলবে। আর যদি তা ছেড়ে দাও, তবে সব সময় বাকাই থাকবে। সূতরাং তোমরা নারীদের সাথে উত্তম ও উপদেশমূলক কথাবার্তা বলবে’।[2]
পৃথিবীতে প্রথম মানব আদম (আঃ) মাটি থেকে এবং প্রথম মানবী হাওয়া (আঃ) আদমের পাঁজরের বাঁকা হাড় থেকে সৃষ্টি। এতদ্ব্যতীত সকল মানব-মানবী এক ফোঁটা অপবিত্র তরল পদার্থ (বীর্য) থেকে অদ্যাবধি সৃষ্টি হয়ে চলেছে। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ বলেন,فَإِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ تُرَابٍ ثُمَّ مِنْ نُطْفَةٍ ثُمَّ مِنْ عَلَقَةٍ ثُمَّ مِنْ مُضْغَةٍ مُخَلَّقَةٍ وَغَيْرِ مُخَلَّقَةٍ لِنُبَيِّنَ لَكُمْ وَنُقِرُّ فِي الْأَرْحَامِ مَا نَشَاءُ إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى ثُمَّ نُخْرِجُكُمْ طِفْلاً- ‘অতঃপর আমরা তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি। এরপর বীর্য থেকে, জমাট বাঁধা রক্ত থেকে, এরপর পূর্ণ আকৃতি ও অপূর্ণ আকৃতি বিশিষ্ট গোশতপিন্ড থেকে, তোমাদের কাছে ব্যক্ত করার জন্যে। আর আমরা নির্দিষ্ট কালের জন্য মাতৃগর্ভে যা ইচ্ছা রেখে দেই, এরপর শিশু অবস্থায় বের করি’ (হজ্জ ২২/৫)। এভাবে আজও মানব বংশবিস্তার অব্যাহত আছে বিবাহ-বন্ধন ও স্বামী-স্ত্রীর মিলন ব্যবস্থার মাধ্যমে। যাতে করে মহান আল্লাহর মহৎ উদ্দেশ্য সফল হয়।
গর্ভে সন্তান গঠনের গূঢ় রহস্য :
গর্ভে সন্তান গঠনের চক্র সাধারণতঃ দীর্ঘ ২৮০ দিন যাবৎ চলতে থাকে। যা ৪০ দিন অন্তর সুনির্দিষ্ট ৭ টি চক্রে বিভক্ত। নারী-পুরুষের যৌন মিলনের সময় নারীর ডিম্বনালীর ফানেলের মত অংশে ডিম্বাণু নেমে আসে এবং ঐ সময় পুরুষের নিক্ষিপ্ত বীর্যের শুক্রাণু জরায়ু বেয়ে উপরে উঠে আসে ও তা ডিম্বনালীতে প্রবেশ করে। প্রথমে একটি শক্তিশালী শুক্রাণু ডিম্বাণুটির দেহে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে তার মধ্যে অন্য কোন শুক্রাণু প্রবেশ করতে পারে না। এভাবে নারীর ডিম্বাণুটি নিষিক্ত (Fertilization) হয় এবং নিষিক্ত ডিম্বাণুটি জরায়ুতে নেমে প্রোথিত (Embedded) হয়।[3] তাছাড়া নারীর ডিম্বাণুর বহিরাবরণে প্রচুর সিয়ালাইল-লুইস-এক্সসিকোয়েন্স্ নামের চিনির অণুর আঠালো শিকল শুক্রাণুকে যুক্ত করে পরস্পর মিলিত হয়।[4] আর এই শুক্রাণু দেখতে ঠিক মাথা মোটা ঝুলে থাকা জোঁকের মত। জোঁক যেমন মানুষের রক্ত চুষে খায়, শুক্রাণু ঠিক তেমনি ডিম্বাণুর মধ্যে প্রবেশ করে মায়ের রক্তে থাকা প্রোটিন চুষে বেড়ে উঠে। নিষিক্ত ডিম্বাণুটি সন্তান জন্মের রূপ নিলে সাধারণতঃ নিম্নে ২১০ দিন ও উর্ধ্বে ২৮০ দিন জরায়ুতে অবস্থান করে এবং ঐ সময়ের মধ্যে ডিম্বাশয়ে নতুন করে আর কোন ডিম্বাণু প্রস্ত্তত হয় না।[5] এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, وَلَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ مِنْ سُلَالَةٍ مِنْ طِيْنٍ ثُمَّ جَعَلْنَاهُ نُطْفَةً فِيْ قَرَارٍ مَكِيْنٍ، ثُمَّ خَلَقْنَا النُّطْفَةَ عَلَقَةً فَخَلَقْنَا الْعَلَقَةَ مُضْغَةً فَخَلَقْنَا الْمُضْغَةَ عِظَامًا فَكَسَوْنَا الْعِظَامَ لَحْمًا ثُمَّ أَنْشَأْنَاهُ خَلْقًا آخَرَ فَتَبَارَكَ اللهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِيْنَ- ‘আমরা মানুষকে মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর আমরা তাকে শুক্রবিন্দু রূপে এক সংরক্ষিত আধারে (জরায়ুতে) স্থাপন করেছি। এরপর শুক্র বিন্দুকে জমাট রক্ত রূপে সৃষ্টি করেছি, অতঃপর জমাট রক্তকে গোশতপিন্ডে পরিণত করেছি, এরপর গোশতপিন্ড থেকে অস্থি সৃষ্টি করেছি, অতঃপর অস্থিকে গোশত দ্বারা আবৃত করেছি, অবশেষে তাকে নতুন রূপে দাঁড় করেছি’ (মুমিন ২৩/১২-১৪)। তিনি আরো বলেন, إِلَى قَدَرٍ مَعْلُوْمٍ، فَقَدَرْنَا فَنِعْمَ الْقَادِرُوْنَ ‘এক নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত, অতঃপর আমরা একে গঠন করেছি পরিমিতভাবে, আমরা কত সুনিপুন স্রষ্টা’ (মুরসালাত ৭৭/২২-২৩)। ‘অতঃপর তিনি তাকে সুষম করেন এবং তাতে রূহ সঞ্চার করেন’ (সাজদাহ ৩২/৯)।
এখানে মানব সৃষ্টির ৭টি স্তর উল্লেখ করা হয়েছে। স্তরগুলো হ’ল মাটির সারাংশ, বীর্য, জমাট রক্ত, গোশতপিন্ড, অস্থি পিঞ্জর, অস্থিতে গোশত দ্বারা আবৃতকরণ ও সৃষ্টির পূর্ণত্ব অর্থাৎ রূহ সঞ্চারণ।[6]
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মাতৃগর্ভে মানব শিশু জন্মের স্তর সম্পর্কে এভাবে বলেছেন, إِنَّ أَحَدَكُمْ يُجْمَعُ خَلْقُهُ فِىْ بَطْنِ أُمِّهِ أَرْبَعِيْنَ يَوْمًا، ثُمَّ يَكُوْنُ عَلَقَةً مِثْلَ ذَلِكَ، ثُمَّ يَكُوْنُ مُضْغَةً مِثْلَ ذَلِكَ، ثُمَّ يَبْعَثُ اللهُ مَلَكًا، فَيُؤْمَرُ بِأَرْبَعِ كَلِمَاتٍ، وَيُقَالُ لَهُ اكْتُبْ عَمَلَهُ وَرِزْقَهُ وَأَجَلَهُ وَشَقِىٌّ أَوْ سَعِيْدٌ ثُمَّ يُنْفَخُ فِيْهِ الرُّوْحُ ‘তোমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টির উপাদান আপন মাতৃগর্ভে বীর্যের আকারে ৪০ দিন, জমাট বাধা রক্তে পরিণত হয়ে ৪০ দিন, গোশত আকারে ৪০ দিন। এরপর আল্লাহ একজন ফেরেশতাকে পাঠান এবং চারটি বিষয়ে আদেশ দেন যে, তার (শিশুর) আমল, রিযিক্ব, আয়ুষ্কাল ও ভালো না মন্দ সব লিপিবদ্ধ কর। অতঃপর তার মধ্যে রূহ ফুঁকে দেয়া হয়’।[7]
অন্যত্র এসেছে, إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ وَكَّلَ بِالرَّحِمِ مَلَكًا يَقُولُ يَا رَبِّ نُطْفَةٌ، يَا رَبِّ عَلَقَةٌ، يَا رَبِّ مُضْغَةٌ. فَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَقْضِىَ خَلْقَهُ قَالَ أَذَكَرٌ أَمْ أُنْثَى شَقِىٌّ أَمْ سَعِيْدٌ فَمَا الرِّزْقُ وَالأَجَلُ فَيُكْتَبُ فِىْ بَطْنِ أُمِّهِ ‘আল্লাহ মাতৃগর্ভে একজন ফেরেশতা মোতায়েন করেন। ফেরেশতা বলেন, হে রব! এখনো তো ভ্রূণ মাত্র। হে রব! এখন জমাট বাঁধা রক্তপিন্ডে পরিণত হয়েছে। হে রব! এবার গোশতের টুকরায় পরিণত হয়েছে। আল্লাহ যদি তাকে সৃষ্টি করতে চান, তখন ফেরেশতাটি বলেন, হে আমার রব! (সন্তানটি) ছেলে না মেয়ে হবে, পাপী না নেক্কার, রিযিক্ব কি পরিমাণ ও আয়ুষ্কাল কত হবে? অতএব এভাবে তার তাক্বদীর মাতৃগর্ভে লিপিবদ্ধ করে দেয়া হয়’।[8] নারী ও পুরুষের বীর্যের সংমিশ্রণ ঘুরতে থাকে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এর চতুর্দিকে একটি আবরণের সৃষ্টি হয়। যাতে করে ভ্রূণটি ধ্বংস হ’তে না পারে। এরপর আস্তে আস্তে এক বিন্দু রক্তকণায় পরিণত হয় এবং সেই রক্তকণা গোশতপিন্ডে ও অস্থিমজ্জায় পরিণত হয়, এভাবেই সৃষ্টি হয় মানব শিশু।[9] মাতৃগর্ভে শিশুকে সংরক্ষণের জন্য মাতৃজঠরের তিনটি পর্দা বা স্তরের কথা কুরআনে বলা হয়েছে। যথা- পেট বা গর্ভ, রেহেম বা জরায়ু এবং ভ্রূণের আবরণ বা ভ্রূণের ঝিল্লি গর্ভফুল (Placenta)।[10] এই তিন স্তর সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, তোমাদের মাতৃগর্ভে পর্যায়ক্রমে একের পর এক ত্রিবিধ অন্ধকারে’ (যুমার ৩৯/৬)।
আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের আলোকে পবিত্র কুরআনে যে, ‘ত্রিবিধ অন্ধকারের’ কথা বলা হয়েছে। এই তিনটি অন্ধকার হ’ল- ১. রেহেম, ২. মাশীমা (المشيمة) বা গর্ভফুল এবং ৩. মায়ের পেট।[11] রেহেমে রক্তপিন্ড ব্যতীত সন্তানের আকার-আকৃতি কিছুই তৈরী হয় না। আর গর্ভফুল (Placenta) ভ্রূণ বৃদ্ধি, সংরক্ষণ, প্রতিরোধ ইত্যাদি কাজে অন্যতম ভূমিকা রাখে। গর্ভফুল মায়ের শরীর থেকে রক্তের মাধ্যমে নানা পুষ্টি ভ্রূণের দেহে বহন করে, খুব ধীর গতিতে রেচন পদার্থ মায়ের দেহের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়। গর্ভফুলের সাহায্যে ভ্রূণ অক্সিজেন (O2) গ্রহণ ও কার্বনডাই অক্সাইড (CO2) ত্যাগ করে মায়ের ফুসফুসের মাধ্যমে, জীবাণু (Infection) থেকে ভ্রূণকে রক্ষা করে। এছাড়া ভ্রূণটি ঠিকমত জরায়ুতে আটকে রাখা, পুষ্টি সঞ্চয়, সম্পর্ক রক্ষা, হর্মোন সৃষ্টি ইত্যাদি কাজে বিশেষ ভূমিকা রাখে।[12] এভাবে ভ্রূণটি জরায়ুতে বেড়ে উঠতে থাকে ও ১২০ দিন অতিবাহিত হ’লে শিশুর রূহ ফুঁকে দেয়া হয়। আর শিশু নড়েচড়ে উঠে ও আঙ্গুল চুষতে থাকে[13]এবং পূর্ণ-পরিণত হওয়ার পরে সেখান থেকে বাইরে ঠেলে দেওয়া হয় (আবাসা ৮০/১৮-২০)। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘ঠেলে দেয়া হয়’। অর্থাৎ ২১০ দিন পর একটি শিশু ভূমিষ্ঠ হবার উপযুক্ত হয়। আর সন্তানটির যখন ভূমিষ্ঠ হবার উপযুক্ত সময় হয়ে যায়, তখন Overy-Placenta থেকে এক প্রকার গ্রন্থিরস নিঃসৃত হয়, যা প্রসব পথ পিচ্ছিল ও জরায়ুর মুখ ঢিলা করে দেয়। আর মানব সন্তান ঐ সময় বিভিন্নভাবে নড়াচড়া করতে থাকে এবং প্রসব পথ পিচ্ছিল থাকায় বাচ্চা অনায়াসে বেরিয়ে আসে। সবচেয়ে মজার কথা হ’ল মানবশিশুর যে অঙ্গ সর্বপ্রথম গঠিত হয় তা হ’ল কর্ণ। আর সন্তান গর্ভে ধারণের ২১০ দিন পর চক্ষু গঠিত হয় এবং একটি পূর্ণাঙ্গ মানব শিশুতে পরিণত হয়।
পুত্র-কন্যা সন্তান সৃষ্টির রহস্য :
নারীর গর্ভ সঞ্চার হওয়ার পর ২৮০ দিনের মধ্যে ১২০ দিন অতিবাহিত হ’লে পুত্র না কন্যা সন্তান ভূমিষ্ঠ হবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়। মহান আল্লাহ এ সম্পর্কে বলেন,لِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ يَهَبُ لِمَنْ يَشَاءُ إِنَاثًا وَيَهَبُ لِمَنْ يَشَاءُ الذُّكُوْرَ، أَوْ يُزَوِّجُهُمْ ذُكْرَانًا وَإِنَاثًا وَيَجْعَلُ مَنْ يَشَاءُ عَقِيْمًا إِنَّهُ عَلِيْمٌ قَدِيْر-ٌ ‘নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব আল্লাহরই। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন, যাকে ইচ্ছা কন্যা এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন। অথবা তাদের পুত্র-কন্যা উভয় দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বজ্ঞ, ক্ষমতাশীল’ (শূরা ৪২/৪৯-৫০)। এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘পুরুষের বীর্য স্ত্রীর বীর্যের উপর প্রাধান্য লাভ করলে পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। আবার স্ত্রীর বীর্য পুরুষের বীর্যের উপর প্রাধান্য লাভ করলে কন্যা সন্তান জন্ম নেয়’।[14]
আধুনিক স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের মতে, জরায়ুতে যদি কন্যা ভ্রূণ সৃষ্টি হয়, তাহ’লে করটেক্স কম্পোন্যান্টগুলি (Cortics Componant) বৃদ্ধি প্রাপ্ত হ’তে থাকে এবং মেডুলার কম্পোন্যান্টগুলি (Medullar Componant) কমতে থাকে। পক্ষান্তরে জরায়ুতে যদি পুত্র ভ্রূণ সৃষ্টি হয়, তাহ’লে করটেক্স কম্পোন্যান্টগুলি (Cortics Componant) কমতে থাকে এবং মেডুলার কম্পোন্যান্টগুলি (Medullar Componant) বৃদ্ধি প্রাপ্ত হ’তে থাকে।[15] তাছাড়া মানুষের প্রতিটি দেহকোষে মোট ২৩ জোড়া ক্রমোজম থাকে। তন্মধ্যে ২২ জোড়া অটোজম এবং এক জোড়া সেক্স (Sex) ক্রমোজম। নারীর ডিম্বাণুতে XX ক্রমোজোম এবং পুরুষের শুক্রাণুতে XY ক্রমোজম থাকে। সুতরাং নারীর ডিম্বাণুর X ক্রমোজমকে যদি পুরুষের শুক্রাণুর X ক্রমোজম নিষিক্ত করে, তবে জাইগোটের ক্রমোজম হবে XX এবং কন্যা সন্তানের জন্ম হবে। পক্ষান্তরে নারীর ডিম্বাণুর X ক্রমোজমকে যদি পুরুষের শুক্রাণুর Y ক্রমোজম নিষিক্ত করে, তবে জাইগোটের ক্রমোজম হবে XY এবং পুত্র সন্তান জন্ম হবে।[16]
মোদ্দাকথা, যখন ডিম্বাণুর ও শুক্রাণুর জাইগোটের ক্রমোজম একই গোত্রীয় (XX) হয়, তখন কন্যা সন্তান এবং যখন ডিম্বাণুর ও শুক্রাণুর জাইগোটের ক্রমোজম একই গোত্রীয় (XY) না হয়, তখন পুত্র সন্তান জন্ম নেয়।[17] অতএব সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ নির্ভর করে পুরুষের দেহে উৎপন্ন শুক্রাণুর উপর। আর যমজ সন্তান জন্ম দানের জন্য সবচেয়ে বেশী ভূমিকা স্ত্রীর। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, নারীর ডিম্বাশয় থেকে যখন একটি ডিম্বাণু জরায়ুতে নেমে আসে, তখন একটি শক্তিশালী শুক্রাণু তাতে প্রবেশ করে একটি সন্তানের জন্ম হয়। কিন্তু যদি দু’টি ডিম্বাণু জরায়ুতে নেমে আসে, তখন দু’টি শক্তিশালী শুক্রাণু তাতে আলাদা আলাদা প্রবেশ করে। ফলে যমজ সন্তানের জন্ম হয়।[18] আবার সন্তানের আকৃতি সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ (ছাঃ) বলেছেন, ‘পুরুষ যখন স্ত্রীর সাথে সহবাস করে তখন যদি পুরুষের বীর্য প্রথমে স্খলিত হয়, তাহ’লে সন্তান পিতার আকৃতি পায়। পক্ষান্তরে যদি স্ত্রীর বীর্য প্রথমে স্খলিত হয়, তাহ’লে সন্তান মায়ের আকৃতি লাভ করে’।[19] এভাবেই সন্তান সৃষ্টির গূঢ় রহস্য বেরিয়ে এসেছে।
শেষ কথা :
মহান আল্লাহ তা‘আলা সুনিপুন করে সুন্দর আকৃতিতে মনোরম কাঠামোতে মানুষ সৃষ্টি করেছেন। আধুনিক বিজ্ঞানীরা নতুন নতুন গবেষণা করে আল্লাহর সৃষ্টির গূঢ় রহস্য উদঘাটন করে চলেছে। এই সব চাঞ্চল্যকর তথ্য থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা আবশ্যক। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে চক্ষুষ্মান ব্যক্তিগণ! তোমরা গবেষণা ও শিক্ষা গ্রহণ কর’ (হাশর ৫৯/২)। যুগে যুগে বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে মানুষ সৃষ্টির চেয়ে মহাকাশ সৃষ্টিকে অতীব বিস্ময়কর মনে করেছেন। দিন দিন নতুন নতুন তথ্য আবিষ্কারে বিস্মিত হয়েছেন। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, ‘মানুষ সৃষ্টি অপেক্ষা নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডলের সৃষ্টি কঠিনতর। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা উপলব্ধি করে না’ (মুমিন ৪০/৫৭)। আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে গবেষণা করার অনুমতি আছে। আমাদের সকলের উচিত আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি গভীর দৃষ্টিপাত করতঃ তাঁর (আললাহর) মহত্ত্ব ঘোষণা করা। বর্তমানে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে নতুন নতুন তথ্য উদ্ধার করছেন। অথচ অনেক আগেই এই তথ্য মানব কল্যাণে মহান আল্লাহ তাঁর রাসূলের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছেন। বলা যেতে পারে, কুরআনই এক সুশৃংখল কল্যাণকর অকৃত্রিম বিস্ময়কর এলাহী বিজ্ঞান এবং রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সর্বকালের যুগশ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী। মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে তা উপলব্ধি করার তাওফীক দান করুন-আমীন!!
[1]. আল-কুরআন, (ঢাকা : ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ৪২তম মুদ্রণ, অক্টোবর ২০১০), টীকা নং ১০৭৭, পৃঃ ৫১৫।
[2]. বুখারী হা/৩০৮৫; ‘কিতাবুল আম্বিয়া’; রিয়াযুছ্ ছলেহীন হা/২৭৩; মুত্তাফাক্ব আলাইহ্, মিশকাত হা/৩২৩৮ ‘বিবাহ’ অধ্যায়।
[3]. গাইনিকলজি শিক্ষা, পৃঃ ২২।
[4]. মাসিক আত-তাহরীক, ১৫তম বর্ষ, ১ম সংখ্যা, অক্টোবর ২০১১, বিজ্ঞান ও বিস্ময়, পৃঃ ৪৩।
[5]. গাইনিকলজি শিক্ষা, পৃঃ ১৫।
[6]. তাফসীর মা‘আরেফুল কুরআন, পৃঃ ৯১৪।
[7]. বুখারী হা/২৯৬৮, ৩০৮৬; মুত্তাফাক্ব আলাইহ্, মিশকাত, হা/৮৬।
[8]. বুখারী, হা/৩০৮৭ ‘কিতাবুল আম্বিয়া’।
[9]. মুহাম্মাদ নূরুল ইসলাম, বিজ্ঞান না কুরআন, পৃঃ ১০৯-১১০।
[10]. বাইবেল, কুরআন ও বিজ্ঞান, পৃঃ ২৭৭, ১নং টীকা দ্রষ্টব্য।
[11]. তাফসীর ইবনে কাছীর, উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য।
[12]. গাইনিকলজি শিক্ষা, পৃঃ ৮।
[13]. নবীদের কাহিনী, ১/২৫ পৃঃ।
[14]. মুসলিম, মিশকাত হা/৪৩৪।
[15]. গাইনিকলজি শিক্ষা, পৃঃ ৪১।
[16]. মাধ্যমিক সাধারণ বিজ্ঞান, জীব কোষের গঠন ও প্রকৃতি অধ্যায়, (ঢাকা : নব পুথিঘর প্রকাশনী), পৃঃ ১৬১।
[17]. J.N.Ghoshal, Anatomy Physcolosy, (Calcata print) P. 479.
[18]. গাইনিকলজি শিক্ষা, পৃঃ ১৫।
[19]. বুখারী, হা/৩০৮৩ ‘কিতাবুল আম্বিয়া’।

কি হচ্ছে এসব ?


কি হচ্ছে এসব ?

মাকে জন্মভূমির সাথে তুলনা করা হয়😊😊...ভাল কথা...কথা হইল মাকে মানে নারী জাতীকে সেই ভূমির সাথে তুলনা করা হয়েছে যেখানে কোটি কোটি মানুষ হাটাহাটি,হাগাহাগি,মুতামুতি,খুনাখুনি আরও কত কিছু করে😜😜😜...এতে নারীদের অসম্মান হয় না আর নারীদের শস্যক্ষেত্রের সাথে তুলনা করলেই অসম্মান হয়ে যায়!!😰😰😰
নাস্তিকদের পল্টিবাজিতে নোবেল দেয়া হোক😜😜😜
=============================
মাইকেল হার্ট, 'The 100: A Ranking of the
Most Influential Persons in History' - বইয়ের
লেখক।
তাঁর এ বইটি শেষ করতে ২৮ বছর লেগেছিল।
তিনি তাঁর বইয়ে মহানবী হযরত মুহাম্মদ
(সা.) কে ১ নম্বরে স্থান দেন।
.
তো তিনি একবার লন্ডনে একটি
অডিটোরিয়ামে লেকচার দিচ্ছিলেন। তখন
তাঁর প্রতি অবজ্ঞাসূচক ধ্বনি করা হচ্ছিল
এবং লেকচারে ব্যাঘাত ঘটানো হচ্ছিল।
উপস্থিত লোকজন অভিযোগ করছিল - কেন
তিনি হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে ১ নম্বরে
স্থান দিয়েছেন?
.
উত্তরে তিনি বললেন, 'মুহাম্মদ (সা.) ৬১১
খ্রিস্টাব্দে মক্কার উপর দাঁড়িয়ে ছিলেন।
তিনি লোকদের বললেন, 'আমি আল্লাহর
প্রেরিত রাসুল।' চারজন লোক তাঁর উপর
বিশ্বাস এনেছিল - তাঁর বেস্ট ফ্রেন্ড, তাঁর
স্ত্রী আর দুই শিশু!
.
এখন, ১৪০০ বছর পরে মুসলমানদের সংখ্যা
১০০ কোটিরও বেশি যা এখনো বাড়ছে।
তিনি মিথ্যাবাদী হতে পারেন না কারণ
একটি মিথ্যা ১৪০০ বছর ধরে টিকে থাকতে
পারে না অথবা কেউ ১০০ কোটি মানুষকে
বোকা বানাতে পারে না।
.
আরেকটা ব্যাপার। এত সময় পরেও
মুসলমানরা তাঁদের জীবন উৎসর্গ করতে
দ্বিধাবোধ করবে না একটিমাত্র শব্দের
উপর যেটি হয়তো তাঁদের নবিকে আঘাত
করতে পারে। এখানে একজন খ্রিস্টান কি
আছে যে কিনা ঈসা (আ.) এর জন্য এটি
করতে রাজি হবে?' এরপরে পুরো
অডিটোরিয়ামে পিনপতন নীরবতা।
=================================
মাওলানা তারিক জামিলের বাংলাদেশ সফরের একটি ঘটনা

মাওলানা তারিক জামিল একবার তার বয়ানে বাংলাদেশ সফরের একটি ঘটনা উল্লেখ কলেন। তিনি বলেন, “আমি বাংলাদেশ থেকে ফিরছিলাম। পথে আমার পাশে সিট পড়লো গৌর বর্ণের একটি ব্যাক্তির। ঘন্টা খানিক আমি কোন কথাই বলিনি। ভেবেছি ইংরেজি হয়ত আমি ভুলে গেছি। প্রায় পঁচিশ বছর হলো আমি ইংরেজি বলি না। তারপর ভাবলাম, ‘একে দাওয়াত দেয়া দরকার। কিন্তু সাহস যুগাতে পারছিলাম না। এরই মধ্যে আমাদের সামনে খাবার পরিবেশিত হলো। এবার আর আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রন করতে পারলাম না।

মনে মনে আল্লাহ তায়ালার সাহায্য চাইলাম – ‘হে আল্লাহ! জীবনে তো বহু ইংরেজি বলেছি। তুমি আমাকে সাহায্য কর।’ তারপর তার সাথে কথা বলতে শুরু করলাম। আল্লাহ তায়ালা ধীরে ধীরে ইংরেজি বলাটা আমার জন্য সহজ করে দিলেন।

আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম – “আচ্ছা! এই যে তোমরা সারা জীবন নাচছো, গাইছো, ডিসকো গিয়ে জুয়া খেলছো এবং একে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে তোমাদের জীবন। তোমার হৃদয়কে একবার জিজ্ঞেস করে দেখ তো এই বিশাল পৃথিবীটা কি এই উদ্দেশ্যেই সৃষ্টি করা হয়েছে?”

আমি তাকে খুব সহজে বললাম, ‘কিছু লোক কোথাও একত্রিত হয়ে নাচবে, গাইবে, পরষ্পরে হাত বদল করবে, রাতভর শরাব পান করবে। তারপর বেহুঁশ হয়ে পড়ে থাকবে। সারা সপ্তাহের উপার্জন এক রাতে এনে ঢেলে দেবে। পরদিন সকাল বেলা উঠে গাঁধার মত আবার উপার্জন শুরু করবে। বলো, এটা কি কোন মানুষের জীবনের চুড়ান্ত লক্ষ হতে পারে?’

সে আমার প্রশ্ন শুনে চুপ হয়ে গেল। বললোঃ ‘এমন প্রশ্নতো জীবনে আমাকে কেউ করেনি!’

আমি বললাম, ‘তুমি আমার প্রশ্নের জবাব দাও। বলো, এই পৃথিবীতে আমরা কি জন্যে এসেছি?’ এই তুচ্ছ কাজগুলোর জন্যেই কি আমরা পৃথিবীতে এসেছি?’

সে একটু ভেবেচিন্তে বললো, ‘না!’

আমি বললামঃ ‘এগুলোই যদি জীবনের টার্গেট হয় তাহলে আমরা তো জানি, টার্গেট অর্জনের পর মানুষের জীবনে একটা সুখ ও স্হিরতা আসে। মানুষ শান্তি ও নিবিড়তা অণুভব করে। তুমি তোমার অন্তরকে জিজ্ঞাসা করে দেখ তো। তুমি কি তোমার হৃদয়ে কখনও প্রশান্তি অণুভব করেছো?’

সে বললোঃ ‘না!’
আমি বললামঃ ‘তাহলে তোমার জীবনে কোথাও একটা শূণ্যতা আছে?’

আমি বললামঃ “আমরা এমন একটি ইসলাম গ্রহন করেছি যেখানে আমাদের জীবনের একটি পরিপূর্ণ চিত্র আছে। কিন্তু কি করবো? আমরা তো নিজেরাই নিজেদের পায়ে কুড়াল মেরেছি।”

একথা বলে আমি তাকে ইসলাম বুঝাতে শুরু করলাম। আমি তাকে বুঝালাম, “ইসলাম একটি পবিত্র ধর্ম। ইসলামের বেশ কিছু সুন্দর দিক তার সামনে তুলে ধরলাম। কথা প্রসঙ্গে আমার মুখ থেকে অলক্ষেই বেরিয়ে এলে ইসলামে মদ পান সম্পূর্ণ হারাম। কারণ, মদ মানুষকে পাগল বানিয়ে ফেলে।”

সে আশ্চর্য হয়ে বললোঃ “তোমাদের ধর্মে মদ হারাম?
আমি বলললামঃ “অবশ্যই।”
সে বললোঃ “আমিতো সারা পৃথিবী ঘুরে বেড়াই। এবং করাচীতে গিয়েই সবচাইতে ভালো মদ পাই”

এই কথা শুনে আমি চুপ হয়ে গেলাম। মনে মনে ভাবলাম, এখন তাকে কি বলতে পারি? আমার হৃদয়টা তখন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেলো। মনে হলো, মুসলমানরাই এখন কাফেরদের ইসলাম গ্রহণের পথে বড় বাঁধা।

তবুও আমি তাকে বললাম, “আমাদের দেখো না। আমাদের ধর্মের কিতাব পড়। বাস্তব জীবনে আমরা দুর্বল। আমাদের কিতাবের সব কথা আমরা মানতে পারি না। কিন্তু আমাদের ধর্মগ্রন্হ পূর্ণ সত্য তাতে কোন খাদ নেই।

এবার নিজেদের বিবেক দিয়ে বিবেচনা করুন। আগে দাওয়াত কাদের জন্য জরুরী? মুসলিমদের জন্য? না অমুসলিমদের জন্য? মূর্খতার সাথে বড় গলায় বলে থাকি যে, ‘নবী ও সাহাবীরা অমুসলিমদের কাছে দাওয়াত দিয়েছে। মুসলমানদের কাছে দাওয়াত কিসের?’

জবাবে বলি, ‘ভাই নবীর জামানায় ১০০% মুসলিম নামাজ পড়েছে। ১০০% মুসলিম পর্দা করেছে। আজকে কত পার্সেন্ট মুসলিম নামাজি? জুম্মার দিনে মসজিদে জায়গা নেই আর ফজরের সময় মসজিদ ফাঁকা কেন? আল্লাহ আমাদের বুঝ দান করুন। দাওয়াতের কাজে কবুল করুন ও সকল নামধারী মুসলিমকে প্রকৃত মুসলিম হওয়ার তওফিক দান করুন। আমিন।।
=====================================
মাত্র ৫মিনিট সময় ব্যয় করে ৫টা গল্প পড়ুন। অনেক কিছু শিখতে পারবেন।
.
.
. গল্প-১:
বাবা গোসলে, মা রান্না ঘরে আর ছেলে টিভি দেখছিল। এমন সময় দরজায় ঘণ্টা বাজল। ছেলে দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে দেখল, পাশের বাসার করিম সাহেব দাঁড়িয়ে।
.
ছেলে কিছু বলার আগেই করিম সাহেব বললেন,"আমি তোমাকে ৫০০ টাকা দেব, যদি তুমি ১০ বার কান ধরে উঠবস করো।"
.
বুদ্ধিমান ছেলে অল্প কিছুক্ষণ চিন্তা করেই কান ধরে উঠবস শুরু করল, প্রতিবার উঠবসে ৫০ টাকা বলে কথা।
.
শেষ হতেই করিম সাহেব ৫০০ টাকার নোট ছেলের হাতে ধরিয়ে দিয়ে চলে গেলেন।
.
বাবা বাথরুম থেকে বের হয়ে ছেলেকে জিজ্ঞেস করলেন,"কে ছিল দরজায়?"
.
ছেলেটিঃ "পাশের বাসার করিম সাহেব"
.
বাবা বললেনঃ ওহ,"আমার ৫০০ টাকা কি দিয়ে গেছেন?"
.
শিক্ষণীয় বিষয়ঃ
আপনার ধার-দেনার তথ্য শেয়ারহোল্ডারদের থেকে গোপন করবেন না। এতে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা থেকে রক্ষা পাবেন।
.
.
.
.
. গল্প-২:
সেলসম্যান,অফিস ক্লার্ক ও ম্যানেজার দুপুরে খেতে যাচ্ছিলেন।পথে তাঁরা একটি পুরোনো প্রদীপ পেলেন।তাঁরা ওটাতে ঘষা দিতেই দৈত্য বের হয়ে এল।
.
দৈত্য বলল,"আমি তোমাদের একটি করে ইচ্ছা পূরণ করব।"
.
"আমি আগে! আমি আগে!" বললেন অফিস ক্লার্ক,"আমি বাহামা সমুদ্রপারে যেতে চাই, যেখানে অন্য কোনো ভাবনা থাকবে না, কাজ থাকবে না।"
.
দৈত্যঃ "ফুঃ...!!"
.
তিনি চলে গেলেন।
.
"এরপর আমি! এরপর আমি!" বললেন সেলসম্যান,"আমি মায়ামি বিচে যেতে চাই, যেখানে শুধু আরাম করব।"
.
দৈত্যঃ "ফুঃ...!!"
.
তিনিও চলে গেলেন।
.
দৈত্য ম্যানেজারকে বললোঃ "এখন তোমার পালা"
.
ম্যানেজার বললেনঃ "আমি ওই দুজনকে আমার অফিসে দেখতে চাই।"
.
শিক্ষণীয় বিষয়:
সব সময় বসকে আগে কথা বলতে দেবেন। তা না হলে নিজের কথার কোন মূল্য থাকবে না।
.
.
.
.
.
. গল্প-৩:
একটি ঈগল গাছের ডালে বসে আরাম করছিল।এমন সময় একটি ছোট খরগোশ ঈগলটিকে দেখে জিজ্ঞেস করল,"আমিও কি তোমার মতো কিছু না করে এভাবে বসে আরাম করতে পারি?"
.
ঈগল উত্তর দিলোঃ "অবশ্যই, কেন পারবে না।"
.
তারপর খরগোশটি মাটিতে এক জায়গায় বসে আরাম করতে থাকলো। হঠাত একটি শিয়াল এসে হাজির, আর লাফ দিয়ে খরগোশকে ধরে খেয়ে ফেললো।
.
শিক্ষণীয় বিষয়:
যদি কোনো কাজ না করে বসে বসে আরাম করতে চান, তাহলে আপনাকে অনেক ওপরে থাকতে হবে।
.
.
.
.
.
. গল্প-৪
একটি মুরগি ও একটি ষাঁড় আলাপ করছিলো।
.
মুরগিঃ "আমার খুব শখ ওই গাছের আগায় উঠব, কিন্তু আমার এত শক্তি নেই", মুরগিটি আফসোস করল।
.
উত্তরে ষাঁড়টি বললোঃ "আচ্ছা, তুমি আমার গোবর খেয়ে দেখতে পারো, এতে অনেক পুষ্টি আছে।"
.
ষাঁড়ের কথা মতো মুরগি পেট পুরে গোবর খেয়ে নিলো এবং আসলেই দেখল সে বেশ শক্তি পাচ্ছে। চেষ্টা করে সে গাছের নিচের শাখায় উঠে পড়লো।
.
দ্বিতীয় দিন আবার খেলো, সে তখন এর ওপরের শাখায় উঠে গেল।
.
অবশেষে চার দিন পর মুরগিটি গাছের আগায় উঠতে সক্ষম হলো।
.
কিন্তু খামারের মালিক যখন দেখলেন মুরগি গাছের আগায়, সঙ্গে সঙ্গে তিনি গুলি করে তাকে গাছ থেকে নামালেন।
.
শিক্ষণীয় বিষয়:
ফাঁকা বুলি (বুল শিট) হয়তো আপনাকে অনেক ওপরে নিয়ে যেতে পারে, কিন্তু আপনি বেশিক্ষণ ওখানে টিকে থাকতে পারবেন না।
.
.
.
.
.
. গল্প-৫
একটি পাখি শীতের সময় দক্ষিণ দিকে যাচ্ছিলো। কিন্তু এত ঠান্ডা ছিল যে পাখিটি শীতে জমে যাচ্ছিল এবং সে একটি বড় মাঠে এসে পড়ল।
.
যখন সে মাঠে পড়ে ছিল, একটি গরু তার অবস্থা দেখে তাকে গোবর দিয়ে ঢেকে দিল।
.
কিছুক্ষণ পর পাখিটি বেশ উষ্ণ অনুভব করল। যখন গোবরের গরমে সে খুব ঝরঝরে হয়ে উঠল,আনন্দে গান গেয়ে উঠল।
.
এমন সময় একটি বিড়াল পাশ দিয়ে যাচ্ছিল, পাখির গান শুনে খুঁজতে লাগলো কোথা থেকে শব্দ আসে। একটু পরই সে গোবরের কাছে আসে এবং সঙ্গে সঙ্গে গোবর খুঁড়ে পাখিটিকে বের করে তার আহার সারে।
.
শিক্ষণীয় বিষয়:
(!). যারা আপনার ওপর কাদা ছোড়ে, তারা সবাই-ই আপনার শত্রু নয়।
.
(!!). যারা আপনাকে পঙ্কিলতা থেকে বের করে আনে, তারা সবাই-ই আপনার বন্ধু নয়।
.
(!!!). এবং যখন আপনি গভীর পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত, তখন মুখ বেশি না খোলাই শ্রেয়।
..
.
========================================

Tuesday, 3 September 2019

আরজ আলী মাতুব্বর এর মাতুব্বরীর



মুক্তমনা ধর্মের নাস্তিক রাসুল আরজ আলী মাতুব্বর এর মাতুব্বরীর জবাব : (স্ক্রিনশটে তার ১ ও ২ নং প্রশ্ন সংযুক্ত) --- ১ম পর্ব :
.........................................................................
১ ও ২ নং প্রশ্নের জবাব :
মাতুব্বর সাহেব যেজন্য বিভ্রান্ত হয়েছেন, সেটা হোলো মানবদেহের কোটি কোটি জীবকোষের প্রতিটির প্রাণশক্তি আলাদা আর মৃত মানুষের দেহ জড় পদার্থে পরিণত হয়ে বিলুপ্ত হয়ে যায়। সুতরাং আমার দেহ, আমার আত্না হলে - আমিটা কে? আর এ আমির স্বরুপ বা আকার কি?

মাতুব্বর সাহেব যদি আরেকটু চিন্তা-গবেষণা করতেন, তবে এ সহজ বিষয়টি অতি সহজে বুঝে যেতেন। এতে শুধু তাকে এতটুকুই চিন্তা করতে হোতো যে, একটি মানুষ যখন নিদ্রা যায় - তখন তার দেহ ও কোটি কোটি দেহকোষের প্রাণ স্বাভাবিকভাবেই ক্রিয়া করতে থাকে কিন্তু তাতে কি এমন বিষয়ের অনুপস্হিতি ঘটে যে, সকল ইন্দ্রিয় সক্রিয় থাকলেও তাতে কোন বোধ ও জ্ঞান থাকে না?
সেই অনুপস্হিত স্বত্তাটি হলো 'আমি'। এবং কোটি কোটি প্রাণসমৃদ্ধ জৈবকোষের দেহবাহনটা এই 'আমি' স্বত্তার দাড়াই পরিচালিত হয়। এবং এই স্বত্তাসমুহ প্রত্যেকটি যে স্বতন্ত্র, তার প্রমাণ হোলো নিজ নিজ দেহবাহনে স্বতন্ত্রতা বজায় রেখে ফিরে আসা। এবিষয়ে পবিত্র কোরআন বলে,

"তিনি (স্রস্টা) রাত্রিবেলা তোমাদের রূহ কবয করেন আর দিনের বেলা তোমরা যা কিছু কর তা তিনি জানেন।(রূহ কবয করার পর তিনি দ্বিতীয় দিনে) আবার তিনি তোমাদের সেই কর্মজগতে ফিরে পাঠান; যেন জীবনের নির্দিষ্ট মেয়াদ পূর্ন হতে পারে। কেন না শেষ পর্যন্ত তাঁর নিকটেই তোমাদের ফিরে যেতে হবে। তোমরা কি কাজ কর? তখন তিনি তা তোমাদের বলে দিবেন।”[ সূরা আল আনআমঃ৬০]

সুতরাং এটা নিশ্চিত যে, মানুষের রুহ বা স্বত্তা জৈবকোষের প্রাণ ও দেহের উপর নির্ভরশীল নয়।
এখন এর স্বরুপ বা আকার কি?
এই দুনিয়ায় মানুষের স্বত্তাকে যে দেহবাহন দেয়া হয়েছে, তার সকল ইন্দ্রিওতে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। একারনে আমরা ২০-২০০০০ সাইকেলের কম বা বেশী আওয়াজ শুনতে অথবা ৪০০০-৮০০০kn এর কম বা বেশী রেজুলেশনের বস্তু দেখতে সক্ষম নই। স্রস্টা এবিষয়ের জ্ঞান আমাদের প্রদান করেন নি এবং বিজ্ঞানও এটি কস্মিনকালেও আবিস্কার করতে সক্ষম হবে না যে, ঘুমন্ত অবস্হায় মানুষের 'আমি' স্বত্তাটির বৈশিষ্ট্য কি? কারণ পবিত্র কোরআন এবিষয়ে দ্যার্থহীনভাবে বলে,

"তারা আপনাকে রূহ (স্বত্তা) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দিন - রূহ আমার পালনকর্তার আদেশ ঘটিত। এ বিষয়ে তোমাদেরকে সামান্য জ্ঞানই দান করা হয়েছে।" [সুরা বনী-ইসরাঈল ১৭:৮৫]
.........
অতএব, মানব স্বত্তাকে বিকল্প দেহ প্রদান করে প্রতিদান দিতে স্রষ্টা সক্ষম - এতে বিভ্রান্তির কোন সুযোগ নেই।

"তিনিই প্রথমবার সৃষ্টিকে অস্তিত্বে আনয়ন করেন, অতঃপর তিনি পুণরায় সৃষ্টি করবেন। এটা তাঁর জন্যে অতি সহজ।" (রুম:২৭)
.........

তথ্য সত্য মুক্তি প্রগতি

তথ্য সত্য মুক্তি প্রগতি কুরআনে বিস্ময়!যে বিস্ময় ভাবনাতে ও আসেনা। ★ আজ দেখব,সূরা আসহাবে কাহফ হতে, সূরা,আয়াত,ঘটনা বর্ণনা,বর্ণিত শব্দের...